উপজেলা নির্বাচনে আ'লীগের ভরাডুবির সম্ভবনা, কদর বাড়ছে জামায়াত-বিএনপি'র ভোটারের
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি
০৮-০৩-২০১৯ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
|
|
উপজেলা নির্বাচনে আ'লীগের ভরাডুবির সম্ভবনা, কদর বাড়ছে জামায়াত-বিএনপি'র ভোটারের
জহুরুল ইসলামঃ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী আকন্দ (নৌকা)। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর সেরাজুল ইসলাম (আনারস) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাজেদুল (দোয়াত কলম) প্রতিকে নির্বাচন করছে।
উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সঠিক নির্দেশনা না থাকায় উপজেলার পদধারী নেতারাও বিদ্রোহীদের পক্ষে মাঠে নেমেছে। এ অবস্থায় উপজেলায় নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বিদ্রোহীরা ঝুকছে জামায়াত-বিএনপি'র দিকে। এতে কদর বাড়ছে তাদের সমর্থকদের।
এছাড়া বেলকুচি উপজেলায় চেয়ারম্যান বাদে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রতিদন্ধিতা করছেন ৬ জন ও ভাইস চেয়াম্যান (মহিলা) পদে প্রতিদন্ধিতা করছেন ৪ জন।
উপজেলার সাধারণ ভোটরদের দাবি আমরা মার্কা দেখে ভোট দিব না দলমত না দেখে যোগ্য- সৎ ব্যক্তিকে তারা বেচে নিবেন। কারণ যে প্রার্থী উপজেলা পরিষদ সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে রাস্তা ঘাট যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে তাকে নির্বাচিত করবেন।
ভোটরা আরও বলছে, নির্বাচনের দিন যেন কোন সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয়, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এজন্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে না। তাই বিএনপি-জামায়াতের সাথে গোপনে আঁতাত করে নৌকার বিপক্ষে ভোট প্রার্থনা করছে বিদ্রোহীরা। দলের অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতারাও ইতোমধ্যে বিদ্রোহীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। শুধু মাঠে নয় উপজেলা পর্যায়ের পদধারী আওয়ামী লীগের নেতারা সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে কথা বলছেন। এ নিয়ে সাধারণ সমর্থকরাও চরম দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছে।
বেলকুচির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম সাজেদুল জানান, তৃণমূল নেতাদের মূল্যায়ন করতে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তার বিশ্বাস উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সে বিজয়ী হবে।
বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর সেরাজুল ইসলাম বিএনপি-জামায়াতের সাথে যোগসাজসের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সাথে রয়েছে। দল থেকে বলা হলেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আকন্দ জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনা তথা নৌকার বিপক্ষে কাজ করছে। কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত নৌকার জন্য এখনো মাঠে নামেনি, এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেয়নি। যে কারণে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই নৌকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। তারপরেও সাধারণ মানুষ ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার পক্ষে, নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেকমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। এখন পর্যন্ত দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে না। যে কারণে দলের মধ্যে বিভক্ত দেখা দিয়েছে। অনেক দায়িত্বশীল নেতারা বিদ্রোহীদের পক্ষে মাঠে জোরেশোরে নেমেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে নৌকার ভরাডুবি হবে। অবিলম্বে তিনি বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ০৮-০৩-২০১৯ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 913 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ