শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২১-০২-২০১৯ ১২:৩০ অপরাহ্ন |
আশ্রয় উপন্যাসটি ঢাকা আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলায় বিপুল সংখ্যক বিক্রি হয়েছে।এই উপন্যাসটি পাঠকের মনে যায়গা করে নিয়েছে।
লেখক ফরিদুল ইসলাম নির্জনের আশ্রয় এই বইটি পাঠকের অনুরোধে উল্লাপাড়া নবম গ্রন্থমেলায় অল্প সংখ্যক রাখা হয়েছে। যা দুটি বুকস্টলে পাওয়া যাবে। যে স্টল গুলো থেকে বই সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই স্টল গুলো হলো উল্লাপাড়া এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ ও উল্লাপাড়া সানফ্লাওয়ার স্কুল। এছাড়াও বইটি নিতে চাইতে মোবাইলে যোগাযোগ করুন এই ০১৯৯৯-৫১৩৬৮৪
বইটিতে যা থাকছে হিন্দু উত্তরাধিকার অাইনে নারীদের সম্পত্তি শর্ত মাফিক ভোগ করতে পারবেন। বিক্রি করতে পারবেন না। তার ছেলে বা ভাই বা অন্য কোন পুরুষ অাত্মীয় পাবে। যার স্বামী মারা যায় তার যদি কোন ছেলে না থাকে । থাকে মেয়ে। সেক্ষেত্রে তার স্বামীর জমির ভোগ করতে পারবে। বিক্রি বা মালিক হতে পারবে না। কতৃত্ব করবে তার দেবর বা অন্য পুরুষ অাত্মীয় কেউ।
এক্ষেত্রে একজন নারীর কি হতে পারে। সে কতটা শোষিত বা বঞ্চিত হচ্ছে। তার দেবরের বউ দ্বারা কতটা লাঞ্চিত হচ্ছে সমাজে।
একজন নারীর বাবা মারা যায়। বিয়ের পর স্বামী মারা যায়। নারীটির দেবর তার স্বামীর সম্পত্তি ভাগিদার হয়। নারীটির শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। তার কণ্যাকে নিয়ে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। এমনি এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামীন পটভূমিকে নিয়ে লেখা উপন্যাস "অাশ্রয়"। যেখানে মালা নামে ধানের চাতালে কাজ করা একজন নারীর বাস্তব গল্পকে চিত্রায়ন করেছি। তার মেয়ে পূজার বেড়ে ওঠা, লড়াই করে বেঁচে থাকা। সুখের অালো, বেদনার প্রলেপ কাটিয়ে সাফল্য হবার গল্প। অপমানিত হবে, কম বয়সে বিয়ে দেবার চেষ্টা করবে তার কাকা। কিভাবে তাদের তাড়ানো যায় তা নিয়ে থাকে বিস্তৃত পরিকল্পনা।
তার ভেতর থেকেও যুদ্ধ করে সে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। ভার্সিটি বন্ধুদের মুখে উঠে অাসে অনেক বিষয়। যেখানে সতী দাহ প্রথা বাতিল হয়, বিধবা নারী বিয়ে করার অাইন পাশ হয়। ভারত, নেপালে হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার অাইন পাশ হয়েছে। অামাদের দেশে হচ্ছে না কেনো। সমস্যা কি ও সমাধানও তাদের মুখ থেকে তুলে এনেছি। শহরে অনেক বড়লোক পরিবার অাছে। যার স্বামী মারা যাবার পর কণ্যা নিয়ে কতটা অসহায় ভাবে বসবাস করে সে রকম অনেক ঘটনাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি একজন মুসলিম নারীর চরিত্রকেও এনেছি। নারীটির নাম অালেয়া। যার সাথে বিয়ে হয় তার জমিজমা যমুনা গর্ভে বিলিন হয়। নারীটি অাশ্রয় চায় তার বাবার কাছে। মুসলিম নারী অাইনে জমি পাবার অধিকার অাছে। ভাইয়ের কাছে যুদ্ধ করে জমি পায়।। স্বামী উদাসীন টাইপের। কর্ম করতে চায় না। সারাদিন তাস খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। লোন করে তাস খেলে। নারীটি ধানের চাতালে কাজ করে। সেই অায় দিয়েই সংসার চলে। ডিভোর্সী মেয়েদের সমাজে ভিন্ন চোখে দেখে। নারীটি চোখ মুখ বুঝে সংসার কামড়ে ধরে থাকে। যখন ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। তখন হাতাহাতি হয়। একটা পর্যায়ে স্বামী বেশি লোন করে পালিয়ে চলে যায়। অালেয়াকে ঘরের ভিটা বিক্রি করে করে লোন শোধ করতে হয়। অালেয়ার অাশ্রয় ভাইয়ের বাড়িতে হয় না। তার ভাইয়ের নমনীয় থাকলেও ভাবী পুরোই নাকোচ। মুখ ঘুরিয়ে নেয়। এমন নারীর অাশ্রয় হবে কোথায়?
পুরো ঘটনাকে অনলাইনে ভার্সনে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামে ইন্টারনেট কেমন বিস্তার করছে। ৫০ বছর পর কেমন হবে সেটাও অানা হয়েছে। ধানের চাতালের মেয়েরা বা গ্রামের অনেক মানুষ লেখাপড়া জানে না। ইন্টারনেট বোঝে, ইমো বোঝে, মেসেঞ্জার বোঝে। ইমোটোকেন এর মাধ্যমে সাংকেতিক ভাবে কথা বলে। তাদের গ্রুপ অাছে। কথা হয় একত্রে। ধানের চাতালেও দেয় ওয়াইফাই সুবিধা। কখন ধানের চাতালে অাসতে হবে। ইমোতে কথা বলে। ইন্টারনেট গ্রামে কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে তা উপন্যাসের মাধ্যমে চিত্রায়ন করেছি। সমাজে এখন বিচার হয় কার মোবাইল দিয়ে কিভাবে ভিডিও করে নেটে ছাড়ে। এসব নিয়ে অাছে বিস্তৃত ঘটনা।
ভিক্ষুকরা অাগে পেটের দায়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতো এখন নেটের দায়ে করে। মুরুব্বি দেখলে মানুষ সম্মান দিতো ফোনে দাঁড়িয়ে ব্যবহার করছে পাশে কে যায় দেখেই না।শিক্ষালয়ে উপস্থিত থেকে ফেসবুকে লাইক-কমেন্টে বেশি সরব। ধর্মীয়গ্রন্থেরর চেয়ে বেশি মানুষ ফোন নিয়ে প্রর্থনালয়ে যায় ।মোরগ বা অাযানের ডাকে ঘুম ভাঙতো এখন ভাঙে মোবাইলের ডাকে। গ্রামে কেউ পানিতে ডুবে গেলে বাঁচানোর জন্য অাপ্রান চেষ্টা থাকতো। এখন ছবি বা ভিডিও তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এমন অনেক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। উপন্যাস : অাশ্রয় লেখক: ফরিদুল ইসলাম নির্জন প্রকাশক: জাগৃতি প্রকাশনী
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com