শিরোনামঃ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ১৬-০২-২০১৯ ০৭:১৯ অপরাহ্ন |
রায়হান আলী উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ উল্লাপাড়া সদর দপ্তরের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মিটার রিডাররা গ্রামে ও মাঠে না গিয়ে তাদের ইচ্ছামত স্থানে বসেই বিল তৈরি করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিচ্ছে ।
গ্রাহকদের অভিযোগ মিটার রিডাররা বাড়ী বাড়ী এবং সেচ পম্পে গিয়ে মিটারে ব্যবহৃত ইউনিট দেখে বিল তৈরি নির্দেশনা থাকলেও তারা না গিয়ে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে বসে ইচ্ছামতো ইউনিট বিলের বইতে বসিয়ে ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে তা বিদ্যুৎ বিলিং অফিসে জমা দিচ্ছে । বিদ্যুৎ বিলিং অফিস বিল যাচাই বাছাই না করেই তা গ্রাহকদের কাছে পৌছায়ে দিচ্ছে । গ্রাহক ওই ভুতুরে বিদ্যৎ বিল সংশোধনের জন্য সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিলিং শাখায় গেলে বিভিন্ন ভাবে ভোগান্তিতে পরতে হয় কিন্তু এর কোন সুরাহা মিলছে না। কোন কারনে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাঁকি পরলে, তা পরিশোধ করার পরো পরবর্তি মাসের বিদ্যুৎ বিলের সংগে ওই পরিশোধিত বিল সংযুক্ত করে দিয়ে গ্রাহকদের চরমভাবে হয়রানি করা হচ্ছে ।
সেচ লাইনের ক্ষেত্রে কৃষকদের এই ভোগান্তি আরো বেশি পোহাতে হয়। মিটার রিডাররা মাঠে না গিয়ে সেচ পাম্প গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগে মিটার না দেখে ইচ্ছা মতো বিদ্যুৎ খরচের ইউনিট বিল বইতে তুলছে, যা মিটারে ব্যবহুত ইউনিটের সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই । এতে কৃষকদেট বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সেচ মৌসুম শেষে বন্ধ সংযোগ থেকেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দিয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করা হয় । অনেক সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে মিটার বিকল হয়ে অতিরিক্ত ইউনিট দেখায়, এতে গ্রাহকদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। বিকল মিটারের অতিরিক্ত ইউনিটের টাকাও তাদের পরিশোধ করতে হয় ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে সেচ প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগে ২০% ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিভিন্ন ভাবে হয়রানির কারনে কৃষকদের ফসল উৎপাদনকে বাঁধাগ্রস্ত করছে ।
উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়া গ্রামের কৃষক আবুল হাসেম জানান গত অক্টোবর মাসে বোরো মৌষুম শেষে আমার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিলো। কিন্তু সেচ সংযোগ বন্ধ হওয়ার ২ মাস পর ডিসেম্বরে ব্যবহৃত ৪২০ ইউনিট দেখিয়ে ১ হাজার ৩ শত ৯২ টাকার বিল দেওয়ায় তা পরিশোধ করতে হয়েছে ।
একই গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান চলতি সেচ মৌসুমে জানুয়ারি মাসে ২০ দিন সেচ পাম্প চালানো হয়েছে । এতে ব্যবহৃত ইউনিট ৩৭২৯ দেখিয়ে ১১ হাজার ৯৮১ টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে । যা মিটারের ব্যবহুত ইউনিটের সাথে বিলে তোলা ইউনিটের সাথে কোন মিল নেই । এ সমস্যার জন্য পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে জানালে অনেক হয়রানির পর ভুল সংশোধন করে পরে আরেকটি বিল তৈরি করে, যার ব্যবহৃত ইউনিট দেখিয়েছে ১২৮৬ । বিল মুল্য হয়েছে ৪ হাজার ১ শত ৬৩ টাকা । এই বিল পূর্বের তুলনায় ৩ গুণ কম। তিনি আরও জানান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে মিটার বিকল হওয়ায় ১২৮৬ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। ভুল করছে বিদ্যুৎ অফিস আর মাশুল দিতে হচ্ছে গ্রহকদের ।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সোলায়মান মিয়া জানান অভিযোগ পাওয়ার পর ৩ জন মিটার রিডারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাঁকিদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে । তার পরও লোকবল কম থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com