শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ১৪-০২-২০১৯ ০৪:১৬ অপরাহ্ন |
সোহাগ হাসান জয়ঃ সিরাজগঞ্জ যমুনার বুকে জেগে উঠেছে বিশাল চর। যার ফলে সিরাজগঞ্জের চৌহালীর সাথে এনায়েতপুরের নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে নৌকার মাঝিমাল্লা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে যমুনা সেতু অথবা পাবনার বেড়া উপজেলা ঘুরে গন্তব্যে পৌছাতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় নৌকার মালিকরা যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজস্ব উদ্যোগে চর কেটে একটি অগভীর সরু চ্যানেল তৈরির চেষ্টা করলেও অর্থাভাবে তা বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকাবাসী সরকারী উদ্যোগে চ্যানেলটি খননের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে যমুনা নদীর মাঝ বরাবর বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে নৌপথে যোগাযোগ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে যে কোন সময় চৌহালী সাথে এনায়েতপুরের নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এনায়েতপুর ঘাটের নৌকার মাঝি মামুন সরকার ও স্বপন আলী জানায়, নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন পানির গভীরতা সর্বনি¤œ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ফলে নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় চর ডুবোচর। বিশেষ করে এই নৌপথের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের খাষইজারাপাড়া থেকে রানজানপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিশাল চর জেগে উঠেছে। চৌহালী উপজেলা সদর থেকে জেলা সদরে যাতায়াতে মাধ্যম এনায়েতপুর বোরিবাঁধ ঘাটের নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এখন যাত্রী ও পন্য বোঝাই বড় বড় নৌযান গুলোকে উত্তরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যমুনা সেতু অথবা দক্ষিণে প্রায় ২৮ কিলোমিটার ঘুরে পাবনার বেড়া উপজেলা হয়ে ঘুড় পথে এনায়েতপুর যাতাযাত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, যাত্রী ও নৌকার মাঝিমাল্লাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নৌকার যাত্রী রুহুল আমিন, সারওয়ার হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম আলম মাষ্টার বলেন, অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে যমুনার বুকে বিশাল চর জেগে ওঠায় নৌকাসহ অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে চরবাসীকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সদিয়া চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ জানান, এনায়েতপুর নৌকা ঘাট থেকে চৌহালী উপজেলা সদরে যেতে বর্ষা মৌসুমে সময় লাগত মাত্র এক ঘন্টা। আর এখন লাগে প্রায় তিন ঘন্টা। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হচ্ছে। এনায়েতপুর ঘাটের ইজারাদার ইউসুফ আলী বেপারী জানান, স্থানীয় ঘাট ও নৌকা মালিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলা ড্রেজার দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার চর খনন করে একটি অগভীর সরু চ্যানেল চালুর চেষ্টা করে তা অর্থাভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। তবে বালুর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় চ্যানেলটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। হত-দরিদ্র নৌকার মালিক ও মাঝিমাল্লাদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যায়ে নিয়মিত ড্রেজিং করে চ্যানেলটি সচল রাখা সম্ভব না। সরকারী উদ্যোগে চ্যানেলটি দ্রুত ড্রেজিং না করা হলে বন্ধ হয়ে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের সহজ যোগাযোগের একমাত্র নৌপথটি।
এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল বলেন, যমুনায় চর জেগে ওঠায় পন্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারী ভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথটি সচল রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com