রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

  

রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে

নিউজরুম
০৩-০২-২০১৯ ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে

রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে। বিশেষ করে উপজেলার সমতল ও চরাঞ্চল এলাকায় এ বছর প্রচুর পরিমান হলুদের চাষাবাদ হয়েছে। সম্প্রতি এই হলুদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক চাতাল।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পতিত ও বাড়ির পার্শ্ববর্তী আবাদি অনাবাদি জমিতে অন্যান্য ফসলের ন্যায় এবার অনেক কৃষক হলুদ চাষাবাদ করছেন। কৃষকদের মতে, বিগত বছরগুলোয় হলুদ আবাদ করে ব্যাপক লাভ হওয়ায় যে কোন সময়ের চেয়ে এবার কৃষকরা বেশি জমিতে হলুদ চাষাবাদ করেছেন। সম্প্রতি এ সব হলুদ উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই হলুদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে হলুদ শিদ্ধ ও শোকানোর জন্য বড়-বড় চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী পৌরসভা এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক চাতাল।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, অল্প সময় ও কম পরিশ্রম এবং কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই চাষ হয় হলুদ। এ কারনে আনেকেই আম বাগানসহ প্রতিত জমিতে হলুদ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছেন।

হলুদ চাষিরা জানান, এক শতক জমিতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচে চাষ করে ৩ থেকে ৪ মণ হলুদ পাওয়া যায়। ওই হলুদ বিক্রি হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মন হিসাবে। আর শ্রমিকরা সকাল ৮টা হতে বেলা ১টা পর্যন্ত হলুদ তুলে মজুরি পান ২০০ টাকা। এতে করে তারাও আর্থিক ভাবে লাভবান হন।

উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিগত সময়ে চরের মাটিতে কখনো-ই হলুদের চাষবাদ করেননি। কিন্তু গত বছর হলুদ চাষিরা বাম্পার দাম পাওয়ায় তিনি এবার প্রায় দুই বিঘা উচু জমিতে হলুদের আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে ওই হলুদ তুলে গরম পানিতে সিদ্ধ করার পর রোদে শুকাচ্ছেন।

এদিকে, নিজ উদ্যোগে উপজেলার বাউসা এলাকার একটি আম বাগানে হলুদ চাষ করেছেন উদ্যমী যুবক আব্দুল ওহাব। তিনি একজন কৃষক ও শিক্ষক।

তিনি জানান, এ বছর প্রায় তিন বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছি। এর মধ্যে এক বিঘা রয়েছে আম বাগান। তার মতে, শ্রম ও সাধনা দিয়ে ফসল আবাদ করলে যে কোন আবাদে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

আব্দুল ওহাব জানান, হলুদ চাষের সময় তিনি ১১ হাজার টাকার বীজ ক্রয় করে হলুদ রোপণ করেন। রোপিত হলুদের গাছ গজানোর সময় দুই একটি সেচ ও পরিমানমত রাসায়নিক সার ছাড়া তেমন কিছুই দেননি। বর্তমানে তার যে পরিমান হলুদ উৎপাদন হয়েছে তাতে খরচের তুলনায় দশ গুন বেশি টাকা আয় হবে ।

আড়ানী এলাকার বাসিন্দা ও পৌরসভার কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক রাজ, নওটিকার আমজাদ হোসেন, তেথুলিয়ার সাইফুল ইসলাম, বলিহার গ্রামের আব্দুল জলিল, আমোদ পুর গ্রামের আলী আকবর ও শাজাহান আলী জানান, সরকার হলুদের ন্যায্য বাজার উপহার দিতে পারলে এ দেশে কখনোই হলুদ সংকোট হবে না। বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে যে পরিমান আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে সবাই যদি কম-বেশী হলুদ চাষা করে তাহলে দেশের চাহিদা পুরনের পর বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব।

আড়ানী এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী সিদ্দিক শেখ, শাহাদত হোসেন, হায়দার আলী, ইদ্রিশ আলী ও সাত্তার জানান, বর্তমানে আড়ানী পৌরসভা এলাকার মধ্যে কাঁচা হলুদ কেনা ও সিদ্ধ করে শুকানোর জন্য প্রায় ৫০টির অধিক চাতাল তৈরী হয়েছে। এ সমস্ত চাতালে ভাল হলুদ (কাঁচা) ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মন বেচা-কেনা হচ্ছে। শুকানোর পর সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, হলুদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলা অফিস থেকে লক্ষ্যমাত্রার কোন তালিকা দেয়নি। তাই কত বিঘা জমিতে হলুদ উৎপাদন হচ্ছে তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারনা করা হচ্ছে, এ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। হলুদ উৎপাদনের জন্য এখানকার মাটি অত্যান্ত উপযোগী।


নিউজরুম ০৩-০২-২০১৯ ০৫:৫৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 623 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com