শিরোনামঃ
নিউজরুম ২৫-০৬-২০২০ ১০:৩০ অপরাহ্ন |
বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ভাঙছে শুরু করেছে নদীতীর। পানির চাপে ক্রমেই ধসে পড়ছে নদী তীরের মাটি। এ অবস্থায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাওথা এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলে রাওথা এলাকার প্রায় ৩৬ বছর আগের পুরোনো মসজিদসহ বেশ কয়েকটি পাড়া-মহল্লা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নদীতীর ভাঙ্গনের ফলে এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন পদ্মাপাড়ের লক্ষাধিক মানুষ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও প্রতিরোধে নেয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাওথা এলাকার কয়েক লাখ পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিন উপজেলার ভাঙন কবলিত রাওথা এলাকা ঘুরে নদীতীর ভাঙ্গনের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় গ্রামবাসি জানান, এক সময় যে মাঠে ফসল চাষ করা হতো। আজ সেই মাঠ জুড়ে অথৈই পানি। সব ভেঙ্গে আজ নদীর বুকে চলে গেছে। আবাদি জমিও নেই। ঘর-বাড়ী ভাঙতে ভাঙতে অনেকেই নি:স্ব হয়েছেন। নদীর বুকে চলে গেছে ঘর-বাড়ীসহ ফসলী জমি। এখন হুমকির মুখে রয়েছে গ্রামটি। যে কোন সময় তলিয়ে যেতে পারে গ্রামটি। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকেই হয়ত বিলীন হতে পারে গ্রামটির নাম।
রাওথা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমান জানান, বন্যার সময় হলেই এলাকায় দেখা মেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনদের। এর আগে তারা কোন দিনই আসেন না ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে। বছরের পর বছর ধরে ভয়াল পদ্মায় রাওথা এলাকার মানুষ সব কিছু হারিয়ে বড়ই অসহায়। মাথা গোজার ঠাই ছাড়া ফসলী জমি সব কিছুই আজ নদী গর্ভে। গত কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবার ভাঙতে শুরু করেছে পদ্মার পাড়। এভাবে আরো কয়েকটি দিন ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিলীন হতে পারে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভেসে যেতে পারে গ্রামটির কয়েক লাখ মানুষের বসত ভিটা।
নদীতীর ঘেষা হুমকির মুখে থাকা ৩৬ বছরের পুরোনো রাওথা মসজিদ কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, প্রতি বছরই এখানে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙতে ভাঙতে আজ একেবারেই দুয়ারে দাড়িয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে চরম আতঙ্কিত রয়েছেন এলাকাবাসী। এভাবে ভাঙতে থাকলে মসজিদটিহ গ্রামটি নদীগর্ভে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাই দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন রাওথা এলাকার মানুষ।
এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, রাওথা এলাকায় উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে। যেখানে নদীর পাড় ভাঙছে সেখানে নকশার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com