পাবনায় ঋণগ্রস্তরা বিপদে এনজিওর কিস্তি নিয়ে
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

  

পাবনায় ঋণগ্রস্তরা বিপদে এনজিওর কিস্তি নিয়ে

নিউজরুম
১০-০৬-২০২০ ০৬:১২ অপরাহ্ন
পাবনায় ঋণগ্রস্তরা বিপদে এনজিওর কিস্তি নিয়ে

 এনজিও’র কিস্তি নিয়ে বিপদে পড়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী মলিনা বেগম।

৬ মাস আগে ব্র্যাক ও পাবনা প্রতিশ্রুতি নামের এনজিও থেকে ৩০ হাজার করে মোট ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কিনে দিয়েছিলেন তিনি। ছেলের অটোভ্যান চালানো উপার্জনেই চলছিল চারজনের সংসার ও এনজিও’র কিস্তি। কিন্তু হঠাৎ করেই করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ে তার সন্তান।

এমন পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তিনি। কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকতেই গত ১ জুন থেকে আবারও কিস্তি আদায় শুরু করেছে এনজিওগুলো। কখনও বাড়িতে গিয়ে, কখনও ফোনে রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করে হুমকি দিয়ে কিস্তি আদায় করছে এনজিওর মাঠকর্মীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন মলিনা বেগম।

শুধু মলিনা বেগমই নন, তার মতো পাবনার বিভিন্ন উপজেলার ঋণগ্রস্ত আরো অনেকেই এখন বিপদে। করোনা সংকটে এমনিতেই কমে গেছে উপার্জন। তার ওপর কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপে দিশেহারা তারা।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বললেন, ‘করোনার পর থেকে কাজ কাম নাই। ব্যবসা বাণিজ্যও তেমন নাই। কিভাবে চলবো সেটা ভাবতিই দিন যায়। এহন কিস্তি দেয়া তো জুলুম হয়া গ্যাছে।’

 

এ গ্রামের গৃহবধূ জমশেদা খাতুন বলেন, ‘আমি এনজিও’র স্যারে কইলেম, স্যার আমি কিস্তি দিবের পারবোনানে। স্যার আমাক সেই ঝারি দিছে। এহন টেকা না থাকলি চুরি কইরে আইনে দেবো নাকি। আমারে ছাওয়ালপালেক ভাত দিবের পারিন্যা, কিস্তি দেবো কোনথেনে। এহন আমরা চাই সরকার লকডাউন করিছে, এর কি ব্যবস্থা করবি সরকার করুক।’

গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, পিসিডি, পাবনা প্রতিশ্রুতি, সিদীপ, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন, টিএমএসএস, উদ্দীপন, এনডিপি, সেতুসহ বিভিন্ন এনজিওর অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে কেউ নেই, মাঠকর্মী ছাড়াও কিস্তি আদায়ে মাঠে নেমেছেন শাখা ব্যবস্থাপকরাও। সম্প্রতি সরকারি একটি নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেয়ার একটি চিঠিকে পুঁজি করে কিস্তি আদায় শুরু করেছেন তারা। অপরদিকে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরীটি কর্তৃক এক পত্রে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো ধরনের কিস্তি আদায় করা যাবেনা মর্মে নির্দেশনাও জারী রয়েছে। তারপরও তারা প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে গিয়ে কিস্তি আদায়ে গ্রাহকদের চাপ সৃষ্টি করছেন।

গ্রাহকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে ‘সিদীপ’ চাটমোহর শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, ‘জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন’র চাটমোহর শাখা ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম, ‘পিসিডি’র দেবোত্তর শাখা ব্যবস্থাপক আলহাজ উদ্দিন আসিফ ও ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ দেবোত্তর শাখার ব্যবস্থাপক ডাব্লিউ হক মুনশী- তাদের সাথে এ ব্যপারে আলাপ হয়। তারা জানান, সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাওয়ার পর তারা মাঠে যান। কিন্তুকোনো গ্রাহকের কাছ থেকে জোর করে চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করছেন না। যে স্বেচ্ছায় দিচ্ছে তারা শুধু তার কিস্তি নিচ্ছেন। কেউ যদি এমন অভিযোগ করে থাকলে তা সঠিক নয় বলে জানান তারা।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘শুনতে পেয়েছি বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও এ ধরনের কাজ করছে। আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি কোন কোন এনজিও এধরনের কাজ করছে। আমরা এনজিওগুলোকে মেসেজ দিয়েছি জোর করে চাপ সৃষ্টি করে কিস্তি আদায় করা যাবে না। কোনো এনজিও যদি এরকম কাজ করে থাকে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। আবারো লকডাউনে পড়তে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে এ সংকট মোকাবেলায় এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা


নিউজরুম ১০-০৬-২০২০ ০৬:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 350 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com