রাজশাহীর গাছে পাকেনি আম নামানোর ব্যস্ততা নেই চাষির
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:১১ অপরাহ্ন

  

রাজশাহীর গাছে পাকেনি আম নামানোর ব্যস্ততা নেই চাষির

নিউজরুম
১৬-০৫-২০২০ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর গাছে পাকেনি আম নামানোর ব্যস্ততা নেই চাষির

 অসময়ে আম নামানো ঠেকাতে গেল চার বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। বেঁধে দেয়া সময় শুরু হয়েছে শুক্রবার (১৫ মে) থেকে। তবে সময় আগে নিয়ে আসায় এখনো পাক ধরেনি আম। এছাড়া বাজারজাতের সমস্যার কারণে আম পাড়া হয় নি রাজশাহীতে। চাষিরা বলছেন গাছে এখনও আম পাকেনি।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে। পরিপক্ব হয়নি। তাই চাষিরা আম নামাচ্ছেন না। ব্যতিক্রম দু’একজন। এখন করোনার সংকটকালেও বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের তড়িঘড়ি আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষিরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকার চাষি আবুল কালাম বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী এখন গুটি আম পাড়া যাবে। তবে আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানোর উপযুক্ত হবে।
তিনি বলেন, এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। আবার এবার আম পাড়ার সময়টাও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি। আম পাড়ার সময় কিছুটা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, কৃষি বিভাগ, ফল গবেষণা কেন্দ্র এবং চাষিদের মতামতের ভিত্তিতেই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন আম যদি না পাকে তাহলে চাষিরা নামাবেন না। আর কেউ যদি অপরিপক্ব আম নামান তাহলে আমরা দেখব, তিনি আমগুলো কেন নামাচ্ছেন। যদি আচারের জন্য নামান, তাহলে কিছু বলার নেই। কিন্তু পাকানোর উদ্দেশ্যে আম নামাতে হলে পরিপক্ব অবস্থাতেই নামাতে হবে। আমরা এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করব।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, গেল বছরও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চাষিরা আগেই আম হাতে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বললেন, আম পেকে গেছে, তারা নামাতে পারছেন না সময় বেঁধে দেয়ার কারণে। তাই এবার একটু আগেই সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া ঠাণ্ডা। সে জন্য আম না-ও পাকতে পারে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীর কোথাও গাছে আম পেকেছে বলে তিনি খবর পাননি। চাষিদের আম নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে বলেন, কৃষি পণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষিরা বাজারে নিতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী জেলায় আম বাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। শুক্রবার থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আাম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এই সময় নির্ধারণ করে দেয়।
এদিকে মিজানুর রহমান, চারঘাট থেকে জানান, জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ১৫ মে শুক্রবার থেকেই নামানো যাবে গুটি জাতের আম। তবে প্রথমদিনে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কোন এলাকায় আম বাগানগুলোতে আম নামানোর খবর পাওয়া যায়নি। তবে আম না নামানোর বিষয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য করোনা আতঙ্কে মানুষই বের হতে পারছে না, সেখানে আম পেড়ে তা বিক্রি করবো কোথায়। অন্যদিকে গুটি জাতের আম এখনো পরিপক্কতা আসেনি বলে দাবি চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে। পরিপক্বতা আসেনি এখনো। তাই চাষিরা আম নামাচ্ছেন না। করোনা সংকটকালে বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের তড়িঘড়ি আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষিরা এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

উপজেলার কালুহাটি এলাকার চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী এখন গুটি আম পাড়া যাবে। তবে আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানো হলে আমের পরিপক্বতা আসবে।
তিনি বলেন, এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। আবার এবার আম পাড়ার সময়টাও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি। আম পাড়ার সময় কিছুটা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, আম পরিপক্বতা না হলে আম নামাবেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে আমে ক্যামিকেলের মিশ্রন ঘটিয়ে কেউ অপরিপক্ব আম নামানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষিরা বাজারে নিতে পারবেন।
শুক্রবার থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এ সময় নির্ধারণ করে দেয়।


নিউজরুম ১৬-০৫-২০২০ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 354 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com