আম বাণিজ্যে করোনার প্রভাব রফতানি নিয়েও শঙ্কা
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৩০ অপরাহ্ন

  

আম বাণিজ্যে করোনার প্রভাব রফতানি নিয়েও শঙ্কা

নিউজরুম
১৩-০৫-২০২০ ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
আম বাণিজ্যে করোনার প্রভাব রফতানি নিয়েও শঙ্কা
প্রাণঘাতি করোনার প্রভাব পড়েছে এবার রাজশাহী অঞ্চলের আম বাণিজ্যে। স্থানীয় প্রশাসনের বেধে দেওয়া সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ মে থেকে বাজারে আসছে আম। অথচ এখন পর্যন্ত আম বাণিজ্যের তেমন প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় আম চাষিরা বলছেন, অন্য বছর এই সময় আম বাগান কয়েকবার হাত বদল হয়ে যায়। কিন্তু করোনার প্রভাবে এখনও অধিকাংশ আম বাগান পড়েই আছে। পরিবহন ও বাজারজাত শঙ্কায় ফিকে হতে বসেছে এই অঞ্চলের হাজারো আম চাষি ও বাগান মালিকের স্বপ্ন।
সুস্বাদু আম বলতেই সবার আগে মনে আসে রাজশাহীর নাম। বৃহত্তর রাজশাহীর এই আমের খ্যাতি দেশের গন্ডি ছাড়িয়েছে বহু আগেই। দিনে দিনে আম হয়ে উঠেছে কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের অর্থনীতির গতি প্রবাহের নিয়ন্ত্রক। প্রতি বছর যে আমে এই অঞ্চলে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয় সেই আম এবার করোনার কারনে গাছেই বাড়ছে অনেকটা অযত্নে। এর কারণ একটাই বৈশ্বিক মহামারি করোনা।
রাজশাহী জেলা প্রসাশনের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে থেকে একে একে বাজারে উঠবে ফলের রাজা আম। তারা বলছেন, গত কয়েক বছরের টানা লোকসানে অনেকেই পুঁজি হারিয়েছেন। এরপরও এবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন চাষিরা। তবে করোনায় সে আশায় গুড়েবালি। ফলে বাগান পরিচর্যায় বাড়তি অর্থলগ্নি করতে চাইছেন না মালিকরা। এতে অনেকটাই অযত্নে বাড়ছে আম। সাধারণ চাষিদের চেয়েও খারাপ অবস্থা রফতানির উদ্দেশ্যে আম চাষিদের। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে আম রফতানি নিয়ে শঙ্কায় তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গ প্রডিউসার কোঅপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে আম রফতানিকারকদের সঙ্গে তাদের ২০ জন আম উৎপাদনকারীর চুক্তি হয়েছে। কিন্তু করোনা সংকটের ফলে এখন রফতানিকারকরা তাদের এড়িয়ে চলছেন। অনেক চেষ্টার পরও তাদের নাগাল পাচ্ছেন না চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে আম রফতানি নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাগান পরিচর্যা বাদ দিয়েছেন বলেও জানান এই আম চাষি।
একই ভাষ্য রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হকের। তিনি বলেন, দেশে এখন নিরাপদ রফতানিযোগ্য প্রচুর আম উৎপাদন হচ্ছে। বিদেশে এর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। করোনা প্রেক্ষিতে ফলের চাহিদা বাড়ায় তৈরি হয়েছে নতুন বাজার। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগোতে হবে।
তবে চলমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই আম বাগান পরিচর্যা ছেড়ে দেয়া যাবে না বলে আম চাষি ও বাগান মালিকদের পরামর্শ দিয়েছেন বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন। তিনি বলেন, করোনার কারণে দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ আম বেশি পছন্দ করেন। কাজেই আম রফতানি না করা গেলেও দেশেই বাজারজাত করা যাবে।
এই আম গবেষক আরো বলেন, আম বাজারে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। করোনা সংক্রমণ এড়াতে আম বাজারগুলোর পরিসর বাড়িয়ে দিতে হবে। যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা করতে পারেন। এই ঘোষণা আগে ভাগেই দেয়া জরুরি। তিনি বলেন, ঢাকা-নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আম কিনতে প্রচুর লোকের সমাগম হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ক্রেতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আম নিয়ে কোনোভাবেই ভীতি ছড়ানো যাবে না বলে উল্লেখ করে ড. শরফ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সময় কেমিক্যাল মেশানো আম নষ্টের খবর আসে গণমাধ্যমে। এমন খবরে আমে আগ্রহ হারাচ্ছে লোকজন। করোনা পরিস্থিতিতে এমন খবর জনমনে আরও আতঙ্ক ছড়াতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই চাষির আম নষ্ট করা যাবে না।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, এখনো তেমন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই। আম পরিমাণে কম থাকলেও বাড়তি রয়েছে ভলো। আশা করা যাচ্ছে এবার ফলনও বেশ ভালোই হবে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই আম নিয়ে এবার চাষিরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। তার আশা কৃষিপণ্য হিসেবে সরকার আমকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।
ড. আলীম উদ্দিনের মতে, এবার আম নিয়ে সবচেয়ে বড় সংকট হতে পারে পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে। এ ক্ষেত্রে রেলওয়েকে কাজে লাগানো যেতে পারে। আম পরিবহনের জন্য রাজশাহী-ঢাকা বিশেষ ট্রেন চালু করা যেতে পারে। এতে চাষির লোকসান কমবে।
আঞ্চলিক কৃষি দফতরের হিসেবে, রাজশাহী অঞ্চলে এ বছর আম বাগান রয়েছে সবমিলিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে। এ থেকে উৎপাদন হতে পারে ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭০ টন আম। গত বছর ৭২ হাজার ৯০৯ হেক্টর আম বাগান থেকে আম উৎপাদন ছিলো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ টন।
সূত্র বলছে, বিভাগে সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এই জেলায় ৩০ হাজার ৩৫ হেক্টর আম বাগান থেকে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার টন আম। এবার সবেচেয়ে বেশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নওগাঁয়। বরেন্দ্রখ্যাত এই জেলায় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর আম বাগান থেকে এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৫৩৯ টন।
এছাড়া রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর বাগানে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৭ টন এবং নাটোরে ৪ হাজার ৮৬৪ হেক্টরে ৬৭ হাজার ২৮৪ টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, যথেষ্ট প্রস্তুতি সত্ত্বেও রাজশাহী থেকে আম রফতানি হচ্ছে সামান্যই। গত বছর রাজশাহী জেলা থেকে ৩৬ দশমিক ৪৪৭ টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ৬৪ দশমিক ৪৫ টন আম রফতানি হয়।


নিউজরুম ১৩-০৫-২০২০ ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 366 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com