শিরোনামঃ
ডেস্ক রিপোর্টঃ ১১-০৫-২০২০ ০৭:১০ পূর্বাহ্ন |
স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল রোববার (১০ মে) থেকে সীমিত পরিসরে দোকানপাট, শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দেয় বানিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (০৪ মে) দেয়া ঘোষণার পরই সরকারী নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা।
এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক সানশাইন। মার্কেট খোলার বিপক্ষে অবস্থান নেন বেশিরভাগ মানুষ। পরে জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা ভেবে শনিবার ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। বৈঠকে দোকানপাট না খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রাজশাহীর সংখ্যগরিষ্ঠ মানুষ।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বন্ধ রাখা হয়েছে নগরীর সবগুলো মার্কেট। বন্ধ রাখা হয়েছে দোকানপাটও। নগরীতে দু এক জায়গায় ছোটখাট দোকানপাট লুকিয়ে খোলার খবর পাওয়া গেলেও বড় দোকানপাট ও মার্কেটগুলো বন্ধই ছিল।
তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নগরের বাইরে জেলার বিভিন্নস্থানে দোকানপাট খোলার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছাড়াই মানুষের ভিড়াভিড়িতে কেনাকাটা করেছেন হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে। উপজেলার অন্যতম বড় এই বাজারের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট খোলা ছিল। কাপড়ের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। একে অন্যের সাথে গাঁ লাগিয়ে, ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করার দৃশ্য দেখলে পিলে চমকে যাবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের।
এদিকে, দোকান খোলার দাবিতে রাজশাহী মহানগরীতে মালিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছেন। রোববার রাজশাহীর নিউ মার্কেটের দোকান মালিক-কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিউমার্কেটের দোকান মালিক-কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিউমার্কেটের সামনে রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা যানবাহন চলাচলেও বাঁধা দেন। কাছাকাছি অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
বিক্ষোভকালে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা বলেন, দোকান তারা খুলতে না পারলে এই সময় আরো সমস্যার মধ্যে পড়বেন। তাই তারা দোকান খুলে দেয়ার দাবি জানান।
এর আগে, চুপিচুপি দোকান খুলতে দেখা গেছে কিছু ব্যবসায়ীকে। সেই দোকান খোলার ছবি তুলতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লাঞ্চিত হয়েছেন তিন ফটো সাংবাদিক। সেদিন একজন ফটোসাংবাদিক খুলে রাখা একটি দোকানের ছবি তুলছিলেন। তখন সাহেববাজার এলাকার ‘রোজ কসমেটিক্স সেন্টার’ নামের দোকানের মালিক নুরুজ্জামান রুবেল তার কর্মচারীদের নিয়ে ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় অন্য দুজন তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।
মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বেশিরভাগ মানুষ স্বাগত জানালেও কিছু দোকান মালিক, কর্মচারী ও খেটে খাওয়া মানুষ মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি করছেন। তাদের পেটের কাছে হার মানছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তারা বলছেন, এভাবে কর্মহীন হয়ে বসে থাকলে সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, মার্কেট খুললে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সংশয় প্রকাশ করে দোকানপাট বন্ধ রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, একটি ঈদের শপিং না করলেও ঈদ পালন করা সম্ভব। কিন্তু মার্কেট খোলা হলে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়বে, মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে মানুষ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com