শিরোনামঃ
ডেস্ক রিপোর্টঃ ০৯-০৫-২০২০ ০৫:০৮ অপরাহ্ন |
ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজশাহীর বাঘায় বেতন না পেয়ে রকিবুল ইসলাম নামে একজন স্কুল শিক্ষক আত্নহত্যার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন। ঘটনার দিন স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন গনমাধ্যমকর্মী ও পুলিশের কাছে রকিবুল বেতন না পেয়ে হতাশায় আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে তার এ আত্মহত্যার নেপথ্যে কারণ ছিলো বিবাহ বিচ্ছেদ।
রকিবুলের ছোট চাচা শিক্ষক আবুহেনা মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর ভাতিজা ২০১৪ সালে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন। এরপর ঢাকায় এক কর্মকর্তাকে আড়াই লাখ টাকা উৎকোচ দেন। পরে তার চাকরি হয়নি। পুরো টাকা খোয়া যায় । তখন সে বিষপানে আত্নহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এ ঘটনার এক বছর পর ২০১৬ সালে রকিবুল ইসলাম আবারও ওই একই পদে চাকরির আবেদন করে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার এক ব্যাক্তিকে দেড় লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু সেখানে একই ঘটনা ঘটে। ফলে সে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে সে কিছু সময় নেশা (মাদকের) সাথে সম্পৃক্ত হয়।
সর্বশেষ তিনি ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে পটুয়াখালি জেলার গলাচিপা থানায় “আমাজাদ হোসেন স্কুল এ্যান্ড কলেজে’’ কারিগরি শাখায় (এন.টি.আর.সিএ)’র মাধ্যমে এ্যাগরো বেজ ফুড (ইনেস্কেক্টর) পদে চাকরি পান। এর কিছুদিন পর তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা এলাকায় আজিজ মন্ডলের মেয়ে মিস তানিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বংশীয় ভাবে রকিবুলের পিতা সিদ্দিকুর রহমান (আহমাদিয়া জামাত) কাদিয়ান ধর্ম গ্রহণ করেন। বিয়ের তিন মাসের মধ্যে খবরটি জেনে যায় তানিয়ার পিতা। এক পর্যায় তাদের সংসার অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং ঘর ভেঙ্গে যায়। এর পর থেকে রকিবুল মানুসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং তাদের সকল আত্নীয় স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। যার সত্যতা স্বীকার করেন তার পিতা সিদ্দিকুর রহমান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোতরাঘব এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি রকিবুল মোবাইলে নির্জন স্থানে বসে কথা বলতেন। এমনও হতে পারে, যার সাথে কথা বলতেন তিনি তাকে কষ্ট দিয়েছেন এজন্য আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে আমজাদ হোসেন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যাক্ষ শাহিন গাজি জানান, একই এমপিওতে জেনারেল এবং কারিগরি’র কাগজ-পত্র প্রেরণ করায় শিক্ষা অফিস আলাদা ভাবে পুন:রায় কাগজ প্রেরণ করতে বলে। পরে সেটিও সম্পূন্ন করেন তিনি। বর্তমানে করোনা সংকট সৃষ্টি না হলে হয়তো এতদিন বেতন চলে আসতো। তিনি বলেন, এখানে চাকরি পাওয়ার জন্য রকিবুলের একটি টাকাও ব্যয় হয়নি। তাকে অনেকটা সহযোগিতা করেছি। বেতন খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চলে আসার কথাও সে জানতো।
প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের জোতরাঘব এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদের উপর পিলারের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রকিবুল ইসলাম। ওইদিন তার পিতা সিদ্দিকুর রহমান গনমাধ্যমকর্মী ও পুলিশকে জানান, ছেলেকে এক বছর পুর্বে বিয়ে দিয়েছিলাম। স্কুলের বেতন না হওয়ায় সংসার টেকেনি। এতে সে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে আত্নহত্যা করেছে।
তবে তার আপন চাচাসহ এলাকার লোকজনের ভাষ্য, বিবাহ্ বিচ্ছেদের কারেন একাকিত্ব জীবন কাটাতে গিয়ে রকিবুল মানুসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com